June 11, 2026

মেহেরপুরের গাংনীতে “আর এ এন্টারপ্রাইজে” ৩৩৬০ বস্তা এসওপি সার রহস্যজনক মজুদ

0
IMG-20251013-WA0020

মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ মেহেরপুর গাংনীতে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের এসওপি সার জব্দ নিয়ে শুরু হয়েছে ধুঁয়াশা,অবশেষে স্থানীয়দের জোর তৎপরতায় গাংনী উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে ৩৩৬০ বস্তা সার প্রাথমিকভাবে জব্দ করে গাংনী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলামের জিম্মায় রেখেছেন।

এ সময় গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন, গাংনী থানার উপপরিদর্শক এস আই আব্দুল গাফ্ফার উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান,রবিবার দিবাগত রাতে কয়েকটি সারের ট্রাক ৩৩৬০ বস্তা সার মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক সড়কের গাংনী বসুন্ধরাপাড়া এলাকায়
“আর এ এন্টারপ্রাইজ” প্রোপাইটার গাংনী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম এবং পরিচালনায় বাপ্পি ও আব্দুল হালিমের গোডাউনে আনলোড করা হয়,রহস্যজনকভাবে একই গোডাউন থেকে রবিবার ১১ অক্টোবর-২০২৫ সন্ধার দিকে আবারও ওই সার ট্রাকে লোড শুরু করে কয়েকজন, এতে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হলে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগসহ পুলিশসহ আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যদের খবর দেন,এক পর্যায়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসককেও খবরটি দেন, পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন, কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন ঘটনাস্থলে পৌছান।
এক পর্যায়ে সারগুলো নিয়ে সৃষ্টি হয় ধুম্রজাল,পরে গাংনী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলামসহ শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন এসে জানান, এসওপি সারগুলো ঝিনাইদহ জেলার জন্য একটি তামাক কোম্পানী নিয়ে এসেছে, ওখানে সমস্যার কারনে এই গোডাউনে রাখা হয়েছে।
সারগুলো চিটাগাঙ্গের নাফকো কোম্পানী থেকে ক্রয় করেছে একটি টোব্যাকো কোম্পানী, তবে টোবাক্য কোম্পানীর কোনো লোক সারগুলোর কাছে আসেনি।
“আর এ এন্টারপ্রাইজ” একজন পরিচালক বাপ্পি জানান, আমাদের এটা রড সিমেন্টের দোকান, শ্রমিকলীগ নেতা মনিরুজ্জামান ফোন করে বলেছে সারগুলো নামবে পরে এসে কোম্পানীর লোকজন নিয়ে যাবে, তারা ভাড়া দেবে, আমার ঘর ফাঁকা ছিল, আমার ঘরে সার নামিয়েছি, আজকে তারা নিয়ে যাচ্ছে,তবে গাড়ির চালকরা জানান, সার বোঝায় থাকলে ট্রাকের চাকা নষ্ট হয়ে যাবে এজন্য আমরা সারগুলো এখানে নামিয়ে রেখেছি,এব্যাপারে থানায় জিডি করতেও গেছি,কিন্তু থানার স্যার না থাকায় জিডি করা হয়নি।
শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও ট্রান্সপোর্টের এজেন্ট আক্তারুজ্জামান বলেন, এই মাল চুয়াডাঙ্গার জীবনগরে আনলোড হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কি কারণে সেখানে সার আনলোড করা হয়নি, আমাদের ফোন করে বললো গাংনীতে মাল আনলোড করে নেন, আমরা এখনো জানিনা কি কারণে মালগুলো এখানে আনলোড করেছে।
এ ব্যাপারে গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন বলেন, এই সারটা বৃটিশ আমেরিকান কোম্পানী এখানে নিয়ে এসেছে,আমাদের গাংনী থানার ওসি জানানোর পর ঘটনাস্থলে এসে সারটা আপাতত জব্দ করে এবং তাদের চালানের কাগজপত্র নিয়েছি, আগামীকাল সারের প্রকৃত মালিকদের আসতে বলেছি। তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পরবর্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসনে বলেন, বর্তমানে সার নিয়ে একটি সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সারটি সংশ্লিষ্ট যারা কিনেছেন তাদের সাথে কৃষি অফিসারের কথা হয়েছে,তারা আসলে উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয়টি সূরাহা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার থেকে ভিটেমাটি রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন। মোঃ কামরুল হাসান কাজল কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বুকচিরে বয়ে গেছে দুধকুমার নদ। প্রতিবছর বর্ষায় আগ্রাসী রুপ ধারণ করে এই নদ। নদের ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত হয় অসংখ্য পরিবার। তাই নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারিয়া-নলেয়া গ্রামে দুধকুমার নদের ভাঙ্গনরোধে ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় প্রায় আনুমানিক দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন থেকে জানানো হয় দুধকুমর নদের বাঁধ নির্মাণ আংশিকভাবে বন্ধ রেখে উজান ও ভাটির অংশে কাজ সম্পন্ন করায় নদীভাঙ্গন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে করে স্থানীয় জনপদ, ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাহ। তিনি বলেন দুধকুমর নদের এই অংশে ভাঙ্গন রোধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পুরো এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। নদের ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা হারিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগী হতে হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীর গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ রেখে অন্য অংশে কাজ সম্পন্ন করায় পানির চাপ এসে এই এলাকায় তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। অবিলম্বে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানান তারা। ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত ) আব্দুল লতিফ জানান, নদের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হবে। এবিষয়ে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে ইতিমধ্যে আমি সংসদে দাবী জানিয়েছি। নদের ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।