June 11, 2026

“ইসলাম, দেশ ও মানবতার খেদমতে”— ২০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলেন হাতপাখার প্রার্থী হারিসুল বারি রনি

0
494597472_663069076705271_6217987149475972084_n

মুহাম্মাদ শেখ ফরিদ, স্ট্যাফ রিপোর্টারঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫, কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও কচাকাটা) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আলহাজ্ব মুহাঃ হারিসুল বারি রনি। তিনি হাতপাখা মার্কায় জনগণের দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করেছেন।

পীর সাহেব চরমোনাই মনোনীত এই প্রার্থী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে বলেন —
আমাদের এই ইশতেহার শুধু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়এটি ইনসাফভিত্তিক একটি ন্যায্য সমাজ গড়ার রূপরেখা। ইসলামদেশ  মানবতার সেবাই হবে আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

পরিচিতি:
আলহাজ্ব হারিসুল বারি রনি নাগেশ্বরী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের এক সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ্ব আজাদ আলী ছিলেন উত্তর ধরলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ (ডি. এম. একাডেমি হাইস্কুল)-এর একজন সফল প্রধান শিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই আলহাজ্ব মুহাঃ হারিসুল বারি রনি  সৎ, নিরহংকার, পরিশ্রমী ও জনদরদী হিসেবে পরিচিত।

তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও দানবীর হিসেবে সর্বমহলে সমাদৃত। টানা ৭ বছর তিনি কুড়িগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ করদাতা হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

  • এসএসসি: নাগেশ্বরী ডি.এম একাডেমী (১৯৯৬)
  • এইচএসসি: ১৯৯৮ সাল
  • স্নাতক: নাগেশ্বরী সরকারি কলেজ (২০০০)

সামাজিক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা:

  • সভাপতি, আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • সভাপতি, পশ্চিম নাগেশ্বরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • সভাপতি, রংধনু ৯৬ ফাউন্ডেশন
  • সভাপতি, উত্তর বদিজমাপুর দারুস সুন্নাহ জামে মসজিদ
  • সহ-সভাপতি, হামিউস সুন্নাহ কেরামতিয়া ক্বওমী ও হাফিজিয়া মাদরাসা
  • সম্পাদক, সাতানীপাড়া দারুন নাজাত জামে মসজিদ-২ ও আল কেরামত হাফিজিয়া মাদরাসা
  • উপদেষ্টা, সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানী-রপ্তানীকারক সমিতি ও বণিক সমিতি
  • সাবেক গভর্নিং বডির সদস্য, নাগেশ্বরী মহিলা মহাবিদ্যালয় ও উপজেলা প্রশাসন স্কুল এন্ড কলেজ।

২০ দফা উন্নয়ন ইশতেহার:
১। ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে সব ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।
২।কচাকাটা থানাকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় উন্নীত করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন।
৩। প্রশাসন ও পুলিশের সঠিক সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে একাধিক পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ও ইউনিয়ন পর্যায়ে টহল।
৪। নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং শতভাগ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ।
৫। দুর্গম এলাকায় বিশেষ স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন।
৬। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ, মাদক ও চোরাচালান দমন এবং সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা জোরদার।
৭। নদী ভাঙন রোধ ও নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন।
৮। কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প স্থাপন করে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ।
৯। যুবকদের জন্য কারিগরি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে আইটি সেন্টার স্থাপন।
১০। মানসম্মত সুশিক্ষা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বৃত্তির সুযোগ সৃষ্টি।
১১। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ।
১২। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
১৩। নারীর অধিকার রক্ষা, উত্তরাধিকার নিশ্চিতে শরয়ী আইন বাস্তবায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
১৪। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও ভাতা বিতরণে অনিয়ম বন্ধে কড়া নজরদারি।
১৫। সোনাহাট স্থলবন্দর আধুনিকায়ন, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি ও ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ।
১৬। ভূটান-বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত বাস্তবায়ন ও স্থানীয়দের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার।
১৭। আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ ও ভূরুঙ্গামারী-রংপুর মেইল বাস সার্ভিস চালু।
১৮। বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে ঋণ সহায়তা ও পরিবারের নিরাপত্তা।
১৯। সরকারি অফিসে জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধ।
২০। মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক তিনটি শ্লোগানের চেতনায় ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠন।

আলহাজ মুহাঃ হারিসুল বারি রনির আহ্বান:
“আমি আপনাদের সন্তান — আপনাদের দোয়া ও ভোটই হবে এই আসনের পরিবর্তনের চাবিকাঠি। ইনশাআল্লাহ, নির্বাচিত হলে ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবো। আসন্ন নির্বাচনে হাতপাখা মার্কায় ভোট দিন, ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে অংশ নিন।”

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার থেকে ভিটেমাটি রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন। মোঃ কামরুল হাসান কাজল কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বুকচিরে বয়ে গেছে দুধকুমার নদ। প্রতিবছর বর্ষায় আগ্রাসী রুপ ধারণ করে এই নদ। নদের ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত হয় অসংখ্য পরিবার। তাই নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারিয়া-নলেয়া গ্রামে দুধকুমার নদের ভাঙ্গনরোধে ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় প্রায় আনুমানিক দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন থেকে জানানো হয় দুধকুমর নদের বাঁধ নির্মাণ আংশিকভাবে বন্ধ রেখে উজান ও ভাটির অংশে কাজ সম্পন্ন করায় নদীভাঙ্গন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে করে স্থানীয় জনপদ, ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাহ। তিনি বলেন দুধকুমর নদের এই অংশে ভাঙ্গন রোধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পুরো এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। নদের ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা হারিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগী হতে হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীর গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ রেখে অন্য অংশে কাজ সম্পন্ন করায় পানির চাপ এসে এই এলাকায় তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। অবিলম্বে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানান তারা। ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত ) আব্দুল লতিফ জানান, নদের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হবে। এবিষয়ে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে ইতিমধ্যে আমি সংসদে দাবী জানিয়েছি। নদের ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার থেকে ভিটেমাটি রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন। মোঃ কামরুল হাসান কাজল কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বুকচিরে বয়ে গেছে দুধকুমার নদ। প্রতিবছর বর্ষায় আগ্রাসী রুপ ধারণ করে এই নদ। নদের ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত হয় অসংখ্য পরিবার। তাই নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারিয়া-নলেয়া গ্রামে দুধকুমার নদের ভাঙ্গনরোধে ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় প্রায় আনুমানিক দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন থেকে জানানো হয় দুধকুমর নদের বাঁধ নির্মাণ আংশিকভাবে বন্ধ রেখে উজান ও ভাটির অংশে কাজ সম্পন্ন করায় নদীভাঙ্গন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে করে স্থানীয় জনপদ, ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাহ। তিনি বলেন দুধকুমর নদের এই অংশে ভাঙ্গন রোধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পুরো এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। নদের ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা হারিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগী হতে হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীর গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ রেখে অন্য অংশে কাজ সম্পন্ন করায় পানির চাপ এসে এই এলাকায় তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। অবিলম্বে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানান তারা। ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত ) আব্দুল লতিফ জানান, নদের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হবে। এবিষয়ে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে ইতিমধ্যে আমি সংসদে দাবী জানিয়েছি। নদের ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।