June 11, 2026

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে তীর রক্ষা বাঁধ।

0
Messenger_creation_D7ABE4C6-0F4E-4D27-8F72-C3A44F29783C

মোঃ কামরুল হাসান কাজল কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদ হতে অবৈধভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি শক্তিশালী চক্র। উপজেলার চর-ভরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় দুধকুমার নদে অবৈধভাবে তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে নদের তীর রক্ষা বাঁধ।

স্থানীয়রা জানান, কোন ধরণের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় জাহাঙ্গীর আলম, মাইদুল  ইসলাম ও

আসাদুল ইসলাম নামের ৩ ব‍্যক্তি অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দুধকুমার নদ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে।

এতে নদের তীর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দূত প্রশাসনিক ব‍্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় নদের তীর রক্ষা বাঁধ ধসে এলাকার ঘর বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ  আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানাযায়, উপজেলার ইসলমপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় দুধকুমার নদের তীরে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১২ কোটি টাকা ব‍্যয়ে শূন‍্য দশমিক পাঁচ শত মিটার একটি তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে। সেই তীর রক্ষা বাঁধকে হুমকিতে ফেলে বাঁধের কাছেই ৩টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু তুলে বিক্রি করছে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের হামিদ মোল্লার দুই ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও মাইদুল  ইসলাম এবং তিলাই ইউনিয়নের খোঁচ বাড়ি এলাকার আব্বাস ঘাটিয়াল এর ছেলে আসাদুল ইসলাম।

৮ থেকে ১০ টি ভটভটি সারা দিন এই বালু পরিবহন করে এবং প্রতি ভটভটি ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করে।

এতে আগামী বর্ষায় নদী তীর রক্ষা বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০, এর ৪ এর (খ) ধারায় বলা হয়েছে, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। অথচ নদের তীর রক্ষা বাঁধকে হুমকিতে ফেলে অবাধে চলছে  বালু উত্তোলন। কিন্তু বালু উত্তোলন বন্ধে পাউবো, সওজ ও স্থানীয় প্রশাসন  কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা  এনামুল, মিজানুর রহমান, মাইদুল ও সামাদ জানান, দুধকুমার নদের পশ্চিম তীরে  পাউবো  নদের ভাঙন প্রতিরোধে তীর রক্ষা বাঁধ তৈরি করতেছে। অথচ তীর সংলগ্ন এসব ব্লকের পাশেই  অবৈধ তিনটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বালু ব্যবসায়ী মাইদুল, জাহাঙ্গীর ও আসাদুল। এতে পাউবোর ব্লকগুলোর স্থানচ্যুতি ঘটে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে নদীর তীর রক্ষা বাধ। শুধু  নদীর তীর রক্ষা বাধ নয় ঝুঁকিতে পড়েছে তীরবর্তী বাসিন্দাদের বসতভিটা, ফসলি জমি। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই তিনজন ড্রেজার মালিক একটি প্রভাশালী মহলের মদদে  বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। কিন্তু  তীর রক্ষা বাধের এত কাছ থেকে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয়রা ঝামেলা এড়াতে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ড্রেজার মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রশাসনের কোন অনুমতি নেই। আমরা বালু তুলে মানুষের বাড়ির ভিটে উঁচু করার কাজে ব‍্যবহার করছি

চর- ভূরুঙ্গামারী  ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মানিক উদ্দিন মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, বালু উত্তলোনের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিচ্ছি। যে কোন অবৈধ কাজ বন্ধে আমি অবশ্যই প্রশাসনের সহায়তা নিবো।

এবিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম পাওবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বদলীজনিত কারণে উপজেলার নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, এবিষয়ে থানা পুলিশের কিছু করার নেই। ভ্রাম‍্যমান আদালত পরিচালনা বা বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে ইউএনও বা এসিল‍্যান্ড মহোদয়ের নির্দেশনার প্রয়োজন হয়।

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার থেকে ভিটেমাটি রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন। মোঃ কামরুল হাসান কাজল কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বুকচিরে বয়ে গেছে দুধকুমার নদ। প্রতিবছর বর্ষায় আগ্রাসী রুপ ধারণ করে এই নদ। নদের ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত হয় অসংখ্য পরিবার। তাই নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারিয়া-নলেয়া গ্রামে দুধকুমার নদের ভাঙ্গনরোধে ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় প্রায় আনুমানিক দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন থেকে জানানো হয় দুধকুমর নদের বাঁধ নির্মাণ আংশিকভাবে বন্ধ রেখে উজান ও ভাটির অংশে কাজ সম্পন্ন করায় নদীভাঙ্গন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে করে স্থানীয় জনপদ, ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাহ। তিনি বলেন দুধকুমর নদের এই অংশে ভাঙ্গন রোধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পুরো এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। নদের ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা হারিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগী হতে হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীর গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ রেখে অন্য অংশে কাজ সম্পন্ন করায় পানির চাপ এসে এই এলাকায় তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। অবিলম্বে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানান তারা। ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত ) আব্দুল লতিফ জানান, নদের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হবে। এবিষয়ে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে ইতিমধ্যে আমি সংসদে দাবী জানিয়েছি। নদের ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার থেকে ভিটেমাটি রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন। মোঃ কামরুল হাসান কাজল কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বুকচিরে বয়ে গেছে দুধকুমার নদ। প্রতিবছর বর্ষায় আগ্রাসী রুপ ধারণ করে এই নদ। নদের ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত হয় অসংখ্য পরিবার। তাই নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারিয়া-নলেয়া গ্রামে দুধকুমার নদের ভাঙ্গনরোধে ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় প্রায় আনুমানিক দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন থেকে জানানো হয় দুধকুমর নদের বাঁধ নির্মাণ আংশিকভাবে বন্ধ রেখে উজান ও ভাটির অংশে কাজ সম্পন্ন করায় নদীভাঙ্গন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে করে স্থানীয় জনপদ, ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাহ। তিনি বলেন দুধকুমর নদের এই অংশে ভাঙ্গন রোধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পুরো এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। নদের ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা হারিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগী হতে হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীর গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ রেখে অন্য অংশে কাজ সম্পন্ন করায় পানির চাপ এসে এই এলাকায় তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। অবিলম্বে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানান তারা। ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত ) আব্দুল লতিফ জানান, নদের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হবে। এবিষয়ে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে ইতিমধ্যে আমি সংসদে দাবী জানিয়েছি। নদের ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।