June 11, 2026

পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাংবাদিক কামরুল হাসান কাজল।

0
Messenger_creation_7152674558378129007

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ আগামী ১৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ বাংলা শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সাংবাদিক কামরুল হাসান কাজল।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় উল্লেখ করেছেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এটি প্রায় ৪৫০ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল ও গৌরবময় প্রতীক।

বার্তায় পহেলা বৈশাখের আগমনে পুরোনো সব দুঃখ, কষ্ট ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার আলোয় উদ্ভাসিত হয় সমগ্র জাতি। বৈশাখ মানেই নতুনের আহ্বান প্রকৃতির মতো মানুষের জীবনেও এই দিনটি নিয়ে আসে নির্মল সূচনা ও সতেজ জাগরণ। শুষ্ক ডালে সবুজের কোমল স্পর্শ, গাছে নবপল্লবের দোলা, মৃদুমন্দ বাতাস এবং রঙিন সাজে সেজে ওঠা প্রকৃতি যেন ঘোষণা দেয়। নতুন বছর এসেছে সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বার্তায় উল্লেখ করা হয়, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সূচনা মূলত মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে। খ্রিষ্টীয় ১৫৮৪ সালে তিনি ‘ফসলি সন’ বা বাংলা সনের প্রবর্তন করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল কৃষকদের কাছ থেকে কর আদায়কে সহজ, সুশৃঙ্খল ও সময়োপযোগী করা। হিজরি চান্দ্রবর্ষের সঙ্গে কৃষিকাজের মৌসুমের সামঞ্জস্য না থাকায় কৃষকদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। নতুন সন সৌর বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়, ফলে ফসল তোলার উপযুক্ত সময়ে কর আদায় সম্ভব হয়।

সময়ের সঙ্গে এই দিনটি গ্রামবাংলার হালখাতা উৎসব থেকে শুরু হয়ে শহরে বিস্তৃত লোকউৎসবে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ নতুন সাংস্কৃতিক মাত্রা লাভ করেছে। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, লোকসংগীত, আলপনা ও চারুকলার বর্ণিল আয়োজন সব মিলিয়ে এটি আজ বাঙালির অন্যতম বৃহৎ অসাম্প্রদায়িক উৎসব।

বার্তায় আরও বলা হয়, পহেলা বৈশাখ কোনো একক ধর্ম বা গোষ্ঠীর উৎসব নয়৷ এটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মিলনোৎসব। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষ একসাথে এই দিন উদযাপন করে, যা বাঙালি জাতির ঐক্য, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত।

পহেলা বৈশাখ আমাদের বাঙালি জাতিসত্তার অন্যতম প্রধান উৎসব। এটি শুধু নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং আমাদের প্রায় চারশো পঞ্চাশ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। এই দিনে আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়াই। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় পহেলা বৈশাখ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমি আশা করি, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ আমাদের সবার জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি বয়ে আনবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিক সমাজ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীকভাবে সংবাদ পরিবেশন করা সহজ নয়। তবুও সাংবাদিকরা সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন বছরে সাংবাদিকদের জন্য আরও নিরাপদ ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পহেলা বৈশাখ আমাদের জন্য আনন্দ, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। এই দিনে আমরা অতীতের সব দুঃখ-দুর্দশা ভুলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাই। সমাজের সব স্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে এই উৎসব উদযাপন করে। যা আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।

পরিশেষে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান হয় আসুন, আমরা সবাই আনন্দ, উৎসাহ ও বাঙালিয়ানার গর্বে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করি।

তবে সেই আনন্দ যেন শালীনতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার সীমারেখার মধ্যে থাকে। সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতিও সহমর্মিতার হাত প্রসারিত করি।

নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও অনাবিল আনন্দ।

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার থেকে ভিটেমাটি রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন। মোঃ কামরুল হাসান কাজল কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বুকচিরে বয়ে গেছে দুধকুমার নদ। প্রতিবছর বর্ষায় আগ্রাসী রুপ ধারণ করে এই নদ। নদের ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত হয় অসংখ্য পরিবার। তাই নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারিয়া-নলেয়া গ্রামে দুধকুমার নদের ভাঙ্গনরোধে ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় প্রায় আনুমানিক দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন থেকে জানানো হয় দুধকুমর নদের বাঁধ নির্মাণ আংশিকভাবে বন্ধ রেখে উজান ও ভাটির অংশে কাজ সম্পন্ন করায় নদীভাঙ্গন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে করে স্থানীয় জনপদ, ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাহ। তিনি বলেন দুধকুমর নদের এই অংশে ভাঙ্গন রোধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পুরো এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। নদের ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা হারিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগী হতে হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীর গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ রেখে অন্য অংশে কাজ সম্পন্ন করায় পানির চাপ এসে এই এলাকায় তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। অবিলম্বে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানান তারা। ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত ) আব্দুল লতিফ জানান, নদের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হবে। এবিষয়ে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে ইতিমধ্যে আমি সংসদে দাবী জানিয়েছি। নদের ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার থেকে ভিটেমাটি রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন। মোঃ কামরুল হাসান কাজল কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বুকচিরে বয়ে গেছে দুধকুমার নদ। প্রতিবছর বর্ষায় আগ্রাসী রুপ ধারণ করে এই নদ। নদের ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত হয় অসংখ্য পরিবার। তাই নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারিয়া-নলেয়া গ্রামে দুধকুমার নদের ভাঙ্গনরোধে ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় প্রায় আনুমানিক দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন থেকে জানানো হয় দুধকুমর নদের বাঁধ নির্মাণ আংশিকভাবে বন্ধ রেখে উজান ও ভাটির অংশে কাজ সম্পন্ন করায় নদীভাঙ্গন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে করে স্থানীয় জনপদ, ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাহ। তিনি বলেন দুধকুমর নদের এই অংশে ভাঙ্গন রোধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পুরো এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। নদের ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা হারিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগী হতে হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীর গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ রেখে অন্য অংশে কাজ সম্পন্ন করায় পানির চাপ এসে এই এলাকায় তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। অবিলম্বে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানান তারা। ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত ) আব্দুল লতিফ জানান, নদের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হবে। এবিষয়ে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে ইতিমধ্যে আমি সংসদে দাবী জানিয়েছি। নদের ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।